মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

পাহাড়পুর জাদুঘর

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে এশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বা সোমপুর বৌদ্ধবিহার। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনে অপূর্ব শিল্প সৌন্দর্যমণ্ডিত এ বিহারটি হতে পারে ভ্রমণবিলাসীদের আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন মডেল। ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখা বরাবর অবস্থিত অসংখ্য পুরাকীর্তির জন্য গর্বিত এ জেলা।
• দেখতে পাহাড়ের মতো উঁচু ইমারতের জন্যই এ গ্রামের নাম পাহাড়পুর। ইংরেজ প্রতœতাত্ত্বিক বুকানন হ্যামিলটন যখন পূর্ব ভারত জরিপ পরিচালনা করেন (১৮০৭-১৮১২) তখন এই ধ্বংসস্তূপটিকে বৌদ্ধবিহার হিসেবে শনাক্ত করেন। ১৯২৩ সালে এর খনন কাজ শুরু হয়। ১৯৩৩-৩৪ সালে খনন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রমাণ মেলে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল ৭৮১-৮৮১ পর্যন্ত এ বিহার নির্মাণ করেছিলেন।
• খননকালে মাটির সিল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এটি সোমপুর বিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ। তিব্বতের ঐতিহাসিত লামা তারানাথের ইতিহাসে সোমপুর বিহারের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা ছিল। ২৭ একর জমির ওপর বিহারটি অবস্থিত। এ বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তর। খনন কালে ১৭৭ একর ছিল। ১২৫ টি মাটির পাত্রে খলিফা হারুন আল রশিদের শাসনামলের রৌপ্য মুদ্রা পাওয়া গেয়েছিল।

 

খলিফা হারুন আল রশিদের শাসনামলের রৌপ্য মুদ্রা যার অধিকাংশই উপযুক্ত রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে হাতছাড়া হয়ে যায়
• আটজন ভিক্ষু এক সাথে বসে উপাসনা করার জায়গা ছিল বিহারে। পূর্ব-দক্ষিন কোণার দিকে প্রাচীরের বাইরে শানবাঁধানো ঘাট আছে। এটাকে সন্ধ্যাবতীর ঘাট বলা হয়। রাজা মৈদলনের কন্যা সন্ধ্যাবতী এ ঘাটে নিয়মিত স্নান করতেন। বিহারের পাশ দিয়েই একটি নদী প্রবাহিত ছিল। দণ প্রাচীরের বাইরে একটি মন্দির আছে। এ মন্দিরকে গন্ধেশ্বরী মন্দির বলা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা মনে করেন মন্দিরটি পূর্ববর্তী কালে তৈরি। বিহারের ভিত্তি বেদীতে ৬৩টি হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি আছে। মন্দিরের দেয়ালে দুই হাজারেরও বেশি পোড়ামাটির ফলক আছে। মন্দিরের দক্ষিন দেয়ালে বৌদ্ধদেবী পদ্মপাণির মূর্তি আছে। ডা: রশিদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, পাহাড়পুর ধ্বংসাবশেষে রাধা-কৃঞ্চ ও কৃঞ্চলীলাসংক্রান্ত অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে শৈল্পিক পার্থক্য লণীয়।
• এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। বিহারে বহু জ্ঞাণী-গুণীর আগমন ঘটত। বিদেশ থেকে বহু বৌদ্ধ জ্ঞানপিপাসু এখানে আসতেন। অধ্যাপক এনামুল হকের লেখায় ডা: আ: করিম বিবরণ দিয়েছেন বিহারের মূল ইমারত নির্মাণ কৌশল সুন্দর ও বহু কলাকৌশলের ইঙ্গিত বহন করে। তৎকালীন স্থপতিদের নৈপুণ্যের পরিচয় পাওয়া যায়। এর উচ্চতা ৭০ ফুট। ওপর থেকে নিচের দিকে তাকালে নিচের গাছপালা ছোট দেখায়।

পাহাড়পুর সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত উল্লেখযোগ্য মূর্তি
• বেলে পাথরের চামুন্ডা মূর্তি
• লাল পাথরের দন্ডায়মান শীতলা মূর্তি
• কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খন্ডাংশ
• কৃষ্ণ পাথরের দন্ডায়মান গণেশ
• বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি
• দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র
• হরগৌরীর ক্ষতিগ্রস্থ মূর্তি
• কৃষ্ণ পাথরের লক্ষ্ণী নারায়নের ভগ্ন মূর্তি
• কৃষ্ণ পাথরের উমা মূর্তি
• বেলে পাথরের গৌরী মূর্তি
• বেলে পাথরের বিষ্ণু মূর্তি
• নন্দী মূর্তি
• কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণু মূর্তি
• সূর্য মূর্তি
• কৃষ্ণ পাথরের শিবলিঙ্গ
• বেলে পাথরের মনসা মূর্তি
• দেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে নওগাঁ জেলা। জেলা সদর থেকে বাসে জয়পুরহাট এবং জয়পুরহাট থেকে বাস ও সিএনজি মাধ্যমে এই প্রাচীন ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের যাওয়া যায়। এলাকাবাসী মনে করেন যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে অসংখ্য বিদেশীর আগমন ঘটবে এখানে।